কাতিলা গামের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা


কাতিলা গাম (Tragacanth Gum) যাকে কাতিরা গাম বা কাতিলা গম ও বলা হয়। এটি সাদা বা হালকা সামান্য লালচে বর্ণের একটি শক্ত আঠা যা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে নরম হয়ে ফুলে উঠে । কাতিলা গাম একটি পলিস্যাকারাইড। এটি উদ্ভিদের শিকড়ের রস শুকিয়ে সংগ্রহ করা হয়, যা গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং পানি দ্রবণীয় ।

কাতিলার পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। এটি টুথপেস্ট, হ্যান্ড লোশন, দাঁতের চিকিৎসায় একধরনের আঠালো পদার্থ, এবং বিভিন্ন জেলি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়াও সালাদ ড্রেসিং, খাবার এবং পানীয় প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে কাতিলা গাম।

কাতিলা গামের পুষ্টিগুণ

১০০ গ্রাম কাতিলা গামের পুষ্টিগুণ নিম্নরূপ:

উপাদানক্যালোরিকার্বোহাইড্রেটফাইবারহাইড্রেটসচর্বিসোডিয়াম
পরিমাণ৭০ কিলোক্যালরি৩৫ গ্রাম৩০ গ্রাম৫ গ্রাম0 গ্রাম৯ গ্রাম
কাতিলা গামের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

কাতিলা গামের স্বাস্থ্য উপকারিতাঃ

অনেকেই কাতিলা গামের উপকারিতা সম্পর্কে জানেন না। আশা করি, কাতিলা গামের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে অনেকেই উপকৃত হবেন।

ক) শরীর শীতল করে

আপনি নিয়ম করে ২ বেলা কাতিলা গাম পানিতে ভিজিয়ে তাতে লেবু, একটু মধু, তালমিছরি বা লাল চিনি মিশিয়ে সেবন করেন তাতে শরীর শীতল হবে ও সারাদিনের ক্লান্তি কেটে যাবে । এছাড়াও, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম যারা সহ্য করতে পারেন না এবং হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তির জন্য কাতিলা গাম হতে পারে অত্যন্ত উপকারি।

খ) কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে

অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং হজমের জন্য কাতিলা গাম অত্যন্ত উপকারী। এর রয়েছে রেচক প্রভাব যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। এতে উপস্থিত এনজাইম খাবার হজম সহজ করে এবং মলত্যাগকে নিয়মিত করে।

কাতিলা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং মেটাবলিজম উন্নত করে। এর উচ্চ ফাইবার আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট পূর্ণ রাখে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে শরীরের উপকার করে।

গ) ত্বক ও চুলের যত্নে কাতিলা গাম

কাতিলা গামের অ্যান্টি-এজিং এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ত্বকের বলিরেখা দূর করতে কাজ করে। পিম্পলের দূর করার জন্যও উপকারী। এটি পিম্পলের ক্ষত নিরাময় এবং দাগ কমায়। এটি ব্রণ, ব্রেকআউট, ত্বকের পিগমেন্টেশন এবং পোড়া থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে।

কাতিলা আপনার চুলের স্বাস্থ্যেরও উপকার করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন থাকায় চুল পড়ার সমস্যার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

কাতিলা গামের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কাতিলা গাম জেল বা আঠা জাতীয় পদার্থ। এটি অন্য কোন ঔষধের সাথে গ্রহন করলে পেট এবং অন্ত্রে ওষুধের সাথে লেগে থাকতে পারে। মুখের মাধ্যমে যে ওষুধ গ্রহণ করেন তার সাথে একই সময়ে কাতিলা গাম গ্রহণ করলে শরীর ওষুধ শোষণ হ্রাস করতে পারে এবং ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। তাই, মুখের মাধ্যমে নেওয়া ওষুধের অন্তত এক ঘন্টা পরে কাতিলা গাম খাবেন।

অবশ্যই এটি প্রচুর পরিমাণে পানির সাথে খেতে হবে। আপনি যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করেন তবে এটি অন্ত্রকে ব্লক করতে পারে। গর্ভাবস্থয় এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে বলে জানা যায় নি।

রেফারেন্স –

আরও পড়তে পারেন –

One Reply to “কাতিলা গামের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা”

  1. কাতিলা গাম খাওয়ার নিয়ম লিখে ইউটিউবে সার্চ করছিলাম,,, তারপর বাকিটা ইতিহাস,,,,,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.